বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

নকলায় মায়ের আহাজারি “আইন্নেরা পোলার মুখটা একবার দেহাইন!”

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৫৫১ বার পঠিত

আইন্নেরা আমার পোলাডার সঙ্গে একবার কতা কউয়াইয়া দেইন। তার মুখটা আমারে একবার দেহাইন। আমি আর সবার পাইতাছিনা। আমার বাবা সৌদি গেছে। গত মাসেও টেহা পাডাইছে। বাবাডার সাথে প্রত্যিদিন কতা না কইলে আমার রাইতে ঘুম অয়না। কয়েকদিন অয়া গেলো আমার বাবা ফোন দেয়না। অহন সবাই কয় আমার কলিজার বাবাডা নাকি মইরা গেছে! আমার বাবা মরে নাই! যদি মইরা যাইতো তাইলে বাবার লাস বাড়িত আনতে এত দেড়ি নাগে কে? আইন্নেরা সবাই আমার নগে মিচা কতা কইতাছুইন কে? আমারে কান্দাইয়া আন্নেগরে নাভ কি? আমি কি পাগলা টাগলা অইয়া গেছি? যেকোন মানুষ দেখলে এভাবেই আহাজারি শুরু করেন শেরপুরের নকলা উপজেলার সৌদি প্রবাসী এক ছেলে হারা বৃদ্ধা মা।

বলছিলাম শেরপুর জেলার নকলা উপজেলাধীন উরফা ইউনিয়নের মোজাকান্দা গ্রামের বৃদ্ধা মা কদ ভানু বেগমের কথা। তিনি উপজেলার উরফা ইউনিয়নের মোজাকান্দা গ্রামের মো. অহেদ আলীর স্ত্রী এবং সৌদি প্রবাসী পরিবারে জন্য উপার্জনের একমাত্র ছেলে সদ্যমৃত দুলাল উদ্দিনের মা।

এদিকে দুলালের মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবারে ও এলাকায় চলছে মাতম। নিজের ক্ষতির বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা কদ ভানু বেগম। তিনি কেঁদে কেঁদে বলছিলেন আমার কলিজার টুকরা পোলাডারে আমার কোলে আইন্না দেন, আমারে শান্তি দেওয়ার জন্য আমার পোলাডা সবকিছু বেইচ্চা বিদেশে গেছে। ও আল্লাহ, এ কেমন পরীক্ষা তোমার। অবিবাহিত পোলাডারে লইয়া গেলা!

এলাকা সূত্রে জানা গেছে, মো. দুলাল উদ্দিন (২৯) গত ৩ বছর আগে উপার্জনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পারি জমান। সেখানে নির্মাণ কাজের শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। চলতি বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। মো. দুলাল উদ্দিনের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ৫০৫২০৪৯৩৩৪। জন্ম তারিখ: ১০ মার্চ, ১৯৯৩ খ্রি।

মারা যাওয়ার পরে দীর্ঘদিন গত হলেও অজ্ঞাত কারনে তার মরদেহ বাংলাদেশে আসছে না। ছেলের লাশের অপেক্ষায় দিনরাত কেঁদে কেঁদে কাটাতে হচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবার পরিজনকে। প্রবাসে (সৌদিতে) মৃত দুলাল উদ্দিনের মরদেহ বাংলাদেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নিহতের সহোদর বড় ভাই মো. আবুল হোসেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস জামালপুরের সহকারী পরিচালকের মাধ্যমে ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ড-এর মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন বলে নিহতের বড় ভাই জানান। এতেও কোন আশার আলো নাদেখে হতাশ হয়ে পড়ছেন পরিবার পরিজন।

আবুল হোসেন জানান, ভাইয়ের মুখটা বৃদ্ধ মা-বাবাকে শেষ বারের মতো দেখাতে পারলে আমরা শান্তি পেতাম। তাই দায়িত্বশীলদের সুদৃষ্টি জরুরি বলে তিনি মনে করছেন। তানাহলে বৃদ্ধ মা-বাবার কেঁদে কেঁদে পরপারে চলে যেতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি আরও জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনার পর থেকে বাবা-মায়ের কোন খাওয়া দাওয়া নেই, নেই ঘুম। এখন তারা পাগল প্রায়। এমতাবস্থায় উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন নিহতের পরিবারসহ সুশীলজন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102