‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় শেরপুরের নকলা উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০০ টি ঘর নির্মাণ করে তা উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর মোড় এলাকার আশ্রয়ন প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াসমীন।
এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজু সাঈদ সিদ্দিকী, স্থানীয় ইউপি সদস্য, এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর মোড় এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের অনুমোদিত ডিজাইন মোতাবেক নির্মাণশৈলী, গুণগতমানসহ বর্তমানের সার্বিক অবস্থা দেখে এবং উপকারভোগীদের সাথে আলাপ করে তাদের অনুভূতি জানার পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াসমীন সন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেছেন।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে উপজেলায় দুই ধাপে ১০০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। প্র্রথম ধাপে ৫৮টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৪২ টি ঘর নির্মান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে উপকারভোগীরা ভেজায় খুশি। আজ তারা পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে দিনাতিপাত করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জেলা-উপজেলায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান, অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক করোনা মহামারির কঠোর ‘বিধি-নিষেধ’ এর মধ্যেও দেশব্যাপী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পরিদর্শনে নামছে পরিদর্শনকারী টিম। এর অংশ হিসেবে নকলায় বাস্তবায়ন করা এসকল প্রকল্পের ঘর শনিবার পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াসমীন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ঘরে বারান্দা, টয়লেট ও রান্নাঘরসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি রয়েছে। প্রথম ধাপের প্রতিটি ঘর নির্মাণের প্রকল্পিক ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে; আর দ্বিতীয় ধাপের প্রতিটি ঘর নির্মাণের প্রকল্পিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। সারা দেশের প্রতিটি ঘর একই নকশায় তৈরী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। এজন্যই করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এ প্রকল্প পরিদর্শনে নেমেছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, নকলা উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৩৩৫ টি “ক” শ্রেণির পরিবার প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করে তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২টি ধাপে ১০০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩৫ টি ঘরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএনও জাহিদুর রহমান জানান, এই ১০০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ছাড়াও ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠির জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠির আরও ৫টি পরিবারকে আধাপাকা ঘর উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে বাকি কাজগুলো করা হবে বলে জানান ইউএনও জাহিদুর রহমান।