সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর তাইতো বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়- জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ভবন ও অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে জনগণ সহজে তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছাতে পারেন এবং বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুততার সহিত গ্রহণ করতে সক্ষম হন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দেশের আইন প্রণয়নকারী এবং জনগণের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য তথা এমপিদের জন্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কোনো স্থায়ী, সুসংগঠিত ও সরকারিভাবে স্বীকৃত প্রশাসনিক ভবন ও অফিস নেই। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ কখন কিভাবে কোথায় গিয়ে তাদের নির্বাচিত এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বা নিজেদের সমস্যার কথা জানাবেন এনিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় এমপিদের ব্যক্তিগত বাসভবন, অস্থায়ী কার্যালয় বা দলীয় অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা সবার জন্য উন্মুক্ত বা উপযোগী নয়।
এছাড়া একটি নির্দিষ্ট অফিস না থাকায় জনগণের অভিযোগ গ্রহণ, সমস্যা নথিভুক্তকরণ, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা সংক্রান্ত সমন্বয় কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া সম্ভাবনা থেকে যায়। একটি স্থায়ী ও সুপরিকল্পিত নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ভবন ও অফিস থাকলে সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, তথ্যকেন্দ্র এবং নাগরিক সেবার আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এতে জনগণের সঙ্গে এমপিদের সরাসরি সংযোগ আরও সুদৃঢ় হতো এবং জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পেত। ফলশ্রুতিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সমূহ ত্বরান্বিত ও অধিকতর ফলপ্রসূ হতো।
বর্তমান সময়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছাকাছি থাকা জরুরি। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় আধুনিক ও সুশৃঙ্খল এমপি অফিস স্থাপন সময়োপযোগী ও অত্যাবশ্যক উদ্যোগ হতে পারে। এতে শুধু জনগণের দুর্ভোগ কমবে না, বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ, দেশের প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সংসদ সদস্যের জন্য পৃথক একটি অফিস বা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
-মো. মোশারফ হোসাইন
শিক্ষক-সাংবাদিক
নকলা, শেরপুর