শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

নকলায় ফ্যামিলি কার্ডের ভূয়া আবেদনের নামে প্রতারণার অভিযোগ! ইউএনও’র সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় | শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এঁর নির্দেশে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের জন্য দেশের ১৪টি উপজেলাকে নির্বাচিত করে ফ্যামিলি কার্ডের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতারক চক্র গ্রামের দরিদ্র সহজ সরল নিরক্ষর মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার লোভে ফেলে ফ্যামিলি কার্ডের ভূয়া আবেদনের নামে প্রতারণা শুরু করেছে; যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে।

হয়তোবা প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রতারক চক্র শেরপুরের নকলা উপজেলাতেও ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেছে। যা অজ্ঞাত কোন একজন নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। ইউএনও বিষয়টি গুরুত্বের সহিত আমলে নিয়ে প্রতারক চক্রের কবল থেকে সাধরণ জনগণকে রক্ষা করতে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেসবুকে টহড় ঘধশষধ ঝযবৎঢ়ঁৎ (ইউএনও নকলা শেরপুর) নামের আইডিতে পরামর্শমূলক কিছু কথা লিখিত আকারে পোস্ট করেন। পোস্টটি হুবহু তুলেধরা হলো “সম্মানিত নকলাবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ফ্যামিলি কার্ড প্রতারক চক্র থেকে সাবধান! নিচের মেসেজটি একজন পাঠিয়েছেন। ‘আমাদের এলাকায় একজন কম্পিউটার দোকানদার ফ্যামিলি কার্ডের ভূয়া আবেদন করে ২০০/৩০০ টাকা নিচ্ছে এলাকার গরিব অসহায় মানুষদের কাছ থেকে।’ সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, নকলা উপজেলায় এ মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান বা আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম চলমান নেই। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকা প্রয়োজন। ইতোপূর্বেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক করা প্রয়োজন। সরকারিভাবে নির্দেশনা পেলে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে এবং উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে বিষয়টি যথাসময়ে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য পরীক্ষামূলক পর্যায়ের দেশের যে ১৪টি এলাকা নির্বাচিত করা হয়েছে সেগুলো হলো: বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি; মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তি; রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা; চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপজেলা; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা; বান্দরবানের লামা উপজেলা; খুলনার খালিশপুর উপজেলা; ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা; সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা; কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা; বগুড়ার সদর উপজেলা; নাটোরের লালপুর উপজেলা; ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। তথ্য মতে, জুন মাসের মধ্যে এসব এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হবে এবং ৪০ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় পরিবারের নারী প্রধানের নামে কার্ড দেওয়া হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দারিদ্র্য মূল্যায়নের জন্য ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ স্কোরিং ব্যবহার করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গ্রামাঞ্চলে যাদের বসতভিটা ও আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার কম, তারা এই কার্ডের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া আয় ও সম্পদ যাচাই করে দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা হবে।

পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা থাকলে অথবা গাড়ি বা এসি থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে না। আগামী চার মাসে পাইলট বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে অন্তত ৪০ হাজার পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। ‘ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬’-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি মার্চ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের থোক বরাদ্দ থেকে এই প্রকল্পের জন্য ৩৯ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫.১৫ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি টাকা সুবিধাভোগী নির্বাচনের কাজে ব্যয় করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৪.৮ কোটি টাকা মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজে এবং ৫.০৮ কোটি টাকা স্মার্ট কার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় বাবদ ব্যবহার করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ওয়ার্ডের ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারের মধ্য থেকে সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ৫০ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই কাজের জন্য ৫৬০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে এককালীন ভাতা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ২ কোটি পরিবারকে মাসিক এই সহায়তার আওতায় আনা। বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এই বার্ষিক বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যের প্রায় ১২ শতাংশের সমান, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে হওয়া সম্ভাব্য বৃহত্তম ব্যয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ২০২৬ সালের নির্দেশিকায় ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্র’ (ইউনিভার্সাল সোশ্যাল আইডি কার্ড) হিসেবে রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ১.২৬ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৮৭ শতাংশ। শহর, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ভুল কমানোর জন্য দুই স্তরের যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা এই কর্মসূচি তদারকি করবেন।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা টিসিবি কার্ডগুলোকে ফ্যামিলি কার্ডের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড এবং ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমেই শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির সুবিধা প্রদান করা হতে পারে বলে নির্দেশিকা মোতাবেক জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102