বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এঁর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শেরপুরের নকলায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাতে নকলা উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও শহর বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপি ও শহর বিএনপিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এঁর পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশা ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কৃতকর্মের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তারা জানান, ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মনসুর রহমান পেশায় একজন রসায়নবিদ ছিলেন। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান তাঁর পিতার সাথে বাবার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও মানব সেবায় তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দেশকে বিভিন্ন সংকটময় মূহুর্ত থেকে মুক্ত করতে তিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তিনি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের বিশ্ব মানচিত্রে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে। মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বক্তারা আরো জানান, জনগণের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সময়ের দাবিতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর নিজহাতে গড়া রাজনৈতিক দলটি তাঁর সহধর্মিণী তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আজ দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। এই দলের সঙ্গে জড়িত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হন। জিয়াউর রহমান’র জনপ্রিয়তা এবং বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নেতৃত্ব গুণে বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমান ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি জাতির মর্যাদাকেও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছিলেন। তাঁর শাসনামল যুগ যুগ ধরে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তারা জানান। জিয়াউর রহমানের সৈনিক জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিক-নির্দেশনা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। দেশপ্রেমিক, সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক জিয়াউর রহমান-এঁর অবদান দেশবাসী কখনো ভুলতে পারবে না; ভুলার মতো নয়, বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভার পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। এসময় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।