অবশেষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (১৪৪, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার লক্ষ্যে এবি পার্টির মনোনীত দেশব্যাপি আলোচিত প্রার্থী নালিতাবাড়ীর আব্দুল্লাহ বাদশা-এর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্টে রিট শুনানি শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করার পরে ১৪ জানুয়ারি বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান’র নিকট বাদশা ও তার কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র জমা করার শেষ দিন গত ২৯ ডিসেম্বর গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট পরে অফিসে হাজির হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ বাদশার মনোনয়নপত্র জমা নেননি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পৌঁছালেও অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে একটু দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং তার মনোনয়নপত্রটি গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু ইউএনও মনোনয়নপত্র জমা নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ইউএনও’র কক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। রাস্তায় গাড়ির একটু সমস্যা হয়েছিল, তাই সময় শেষ হওয়ার আগে অফিসে প্রবেশ করতে নাপারলেও ৫টার মধ্যেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনের ভেতরে পৌঁছেন বলে জানান আব্দুল্লাহ বাদশা। এছাড়া সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগে জানাতে বারবার ফোন করেছিলেন বলেও আবদুল্লাহ বাদশা জানান।
তখন এ বিষয়ে সহকারী রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরীন বলেন, ‘প্রার্থীর চোখের পানি দেখে যেকেউ হয়তোবা আবেগপ্রবণ হবেন। বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি। তবে জাতীয় নির্বাচনে কঠোর আইনের কারণে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো এখতিয়ার আমার নেই। বিকেল ৫টার পর কোনোভাবেই মনোনয়নপত্র গ্রহণের সুযোগ আমার হাতে নেই।’ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশের পরিচিত প্রায় সকল গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি ব্যপকভাবে ভাইরাল হয়। পরে এবি পার্টির প্রার্থী বাদশা হাইকোর্টের সরণাপন্ন হলে তার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়। অবশেষে হাইকোর্টের রায়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ১৪ জানুয়ারি বুধবার দুপুরের দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান-এঁর নিকট মনোনয়নপত্র জমা করেন আবদুল্লাহ বাদশা।