নিয়োগবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে শেরপুরের নকলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) ও পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ)। মঙ্গলবার সকাল থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন না করে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতির ব্যানার হাতে অবস্থান নেন তারা। এ সময় পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রচার সপ্তাহ বর্জনের ঘোষণাও দেন দাবী আদায়ের আন্দোলনকারীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতি শেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আবু রায়হান তরুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ছাহেরা খাতুন ও সদস্য লূৎফুন নাহার, উপজেলা শাখার সভাপতি সুজন মিয়া, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রমা রানী সাহা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ও পরিবারকল্যাণ সহকারী উম্মে কুলসুমসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, পরিবারকল্যাণ কর্মীরা প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিসেবা, টিকাদান কর্মসূচীসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন; অথচ তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে থাকলেও নিয়োগবিধি না থাকায় পদোন্নতি হচ্ছে না। তাই দ্রুত নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তারা।
তারা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে বেতন গ্রেড পরিবর্তন বা আর্থিক সুবিধা চাইনি। শুধু আমাদের নিয়োগ বিধি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। আমরা দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত হলেও সরকার আমাদের চাকরির নিয়োগ বিধি করে দেয়নি। যেকোন চাকরির একটা বিধি থাকা জরুরি। তাই প্রায় ২৬ বছর ধরেই আমরা আমাদের নিয়োগ বিধি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছি।’
বক্তারা আরো জানান, সারাদেশে ৫ হাজার ৭১০ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা, ৪ হাজার ৫০০ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও ২৩ হাজার পরিবার কল্যাণ সহকারীসহ মোট ৩৩ হাজার ৫১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। এদের জন্য প্রস্তাবিত ‘পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (নন-ক্যাডার কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রেরণ করেছেন তারা। স্মারক লিপিতে বলা হয়, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরকার তাদের দাবি মেনে নানিলে নভেম্বর মাসের এমআইএস-এর ১, ২ ও ৩ রিপোর্ট প্রদান বন্ধ রাখাসহ আগত ডিসেম্বর মাসের পরিবার পরিকল্পনা সেবা সপ্তাহ বর্জন করা হবে। এছাড়া নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন দাবির প্রেক্ষিতে যে ২ সহকর্মীকে শাস্তি মূলক বদলী করা হয়েছে, তাদেরকে পূর্বের কর্মস্থলে পুনরায় বহাল করার দাবি জানানো হয়। ওই স্মারক লিপিতে আরো বলা হয়, দাবি আদায়ের ইস্যুতে যদি কাউকে শোকজ, বদলী, বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত অথবা হয়রানি মূলক যেকোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, প্রয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঘেরাও করার পাশাপাশি ধারাবাহিক কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মর্সূচী দেওয়া হবে বলেও নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দিয়েছেন লিখিত ওই স্মারক লিপিতে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় তারা কর্মবিরতি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও বক্তারা জানান। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া কর্মবিরতি আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগাতার চলবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।