শেরপুরের নকলা উপজেলার তরুণ লেখক মো. শাহ্ আলম শাওন-এর লেখা ‘হৃদয়পুরের অনুক্ত কথন’ কাব্য গ্রন্থটি আসছে আগামী বইমেলায়। পাঠকদের সুবিধার্থে এখন থেকেই অনলাইনে প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে রকমারী ডট কম। ‘হৃদয়পুরের অনুক্ত কথন’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠকের মনুষ্যত্বের সুপ্ত দরজা উন্মুক্ত করবে বলে মনে করছেন তরুণ লেখক শাহ্ আলম শাওন। বইটি দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ কার হচ্ছে। ‘হৃদয়পুরের অনুক্ত কথন’ কাব্য গ্রন্থটিই লেখকের লেখা প্রথম বই।
সে বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের তুলনায় একটু ভিন্ন ধর্মের বা ভিন্ন প্রকৃতির লোক। সে মূলত একজন প্রকৃতিপ্রেমী ও মুক্ত চিন্তার তরুণ লেখক। একজন বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তার পছন্দ। একাকিত্ব উপভোগ করেন তবে চারপাশটা পরিপূর্ণতায় সাজিয়ে।
তরুণ লেখক মো. শাহ্ আলম শাওন বলেন, ‘লেখালেখি করা আমার শখ বা অভ্যাস কোনোটাই এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে, মাঝেমধ্যে যখন তীব্র জীবনবোধ তাড়া করে বেড়ায়, কিংবা একাকী প্রহরে নিজের মধ্যে খুববেশি গুম হয়ে যাই; তখন ইচ্ছে হয় মনের অগোছালো ভাবনা গুলোকে গুছিয়ে রাখতে। সেইসব গুছানো ভাবনার একাংশই আমার এই কাব্যের বিষয়বস্তু। বাবার চাকরির সুবাদে এবং তৃষ্ণার্ত আত্মার অমীমাংসিত চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে, বাংলাদেশের বহু জায়গায় গিয়েছি, থেকেছি এবং দেখেছি। বাংলার প্রকৃতি– সংস্কৃতি, বাংলার মানুষের জীবন ও জীবন বোধ খুব কাছ থেকে দেখার এবং জানার সুযোগ হয়েছে। প্রায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথেই মিশেছি। যদিও মানুষকে শ্রেণীতে ভাগাভাগি করার পক্ষে আমি নই। কিন্তু সমাজ এ বিন্যাস করেই রেখেছে। আমরাও খুব সহজেই মেনে নিয়েছি বা মেনে নিতে হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জীবন হলো মৃত্যুমুখী এক অলৌকিক যাত্রার নাম। মরণটাই চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ বিলাসিতায় গা ভাসায়, আশার বীজবপন করে বাঁচার স্বপ্নে বিভুর হয়। তীব্র জীবনবোধ মানুষকে প্রতিনিয়ত মরীচিকার মায়ায় ফেলে মর্মান্তিকভাবে ধোকা দেয়। তবুও মানুষ আবার আশায় বসতি গড়ে। বড় অদ্ভুৎ এই জীবন বোধ। অথচ শিউরেই দাঁড়িয়ে থাকে বা দাঁড়িয়ে আছে মরণ। মানুষের জন্ম শুধুমাত্র মৃত্যুর অপেক্ষার জন্য হয়নি। মানুষই একমাত্র প্রাণী যার অমরত্বের সুযোগ রয়েছে। মৃত্যুর পরই মানুষের চরিত্র প্রকৃতপক্ষে উন্মোচিত হয়। জন্ম নিয়ে যদি দুনিয়ায় পদচিহ্ন রেখে যেতে না পারেন তবে সে জন্ম বৃথা। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যদি এটুকু নিশ্চয়তা না দিতে পারেন যে, আজ আপনার দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা এমন কোনো কাজ আপনি করেননি, যা আপনার নরকে যাওয়ার কারণ হতে পারে। আর তখনই মানুষ হিসেবে আপনি কলঙ্কিত। আমি বিদ্রোহী নই, আমার কবিতায় বিদ্রোহ নেই; আছে অসঙ্গতির বিরুদ্ধে নিরব প্রতিবাদ। পবিত্র আত্মার কাছে এগুলো মধুর বাণী। অপবিত্র আত্মার জন্য পাগলের প্রলাপ। আমার জীবন বোধ আমাকে শুধু পবিত্র আত্মাদের প্রতিই তাড়া করে। ‘হৃদয়পুরের অনুক্ত কথন’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠকের মনুষ্যত্বের সুপ্ত দরজা উন্মুক্ত করতে সমর্থ্য হলে এবং পাঠকের জীবনবোধে বিন্দু পরিমাণ দাগ কাটলে আমি স্বার্থক বলে মনে করবো।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের প্রত্যাশা ছিল আমার লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ বাজারে আসুক। তা এবার পূরণ হল। আরও একটি প্রত্যাশা পূরণ হবে তা হলো এই বইতে অটোগ্রাফ দেওয়া। এজন্য পাঠক ও শুভাকাঙ্খিদের আন্তরিক সহযোগিতা কাম্য।’
তথ্য মতে, মো. শাহ্ আলম শাওনের পৈতৃক নিবাস শেরপুরের নকলা উপজেলার কবুতরমারী গ্রাম; তবে জন্মস্থান একই উপজেলার চরকৈয়া গ্রামে মাতুতালয়ে (নানার বাড়িতে)। তার বাবা মো. আইয়ুব আলী বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মা মোছা. সাজেদা বেগম একজন সর্বেসর্বা নারী তথা একজন গর্বিত মা। তারা চার ভাই এবং ভাইয়েদের মধ্যে সে দ্বিতীয়। পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। মাঝে মধ্যে লেখতে ভালোবাসেন। আর এই ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই বই লেখার প্রতি আগ্রহের উৎপত্তি।