অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ববহুল টেস্টের ফাঁদে ফেলে বাণিজ্যিক দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক
বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও নিজস্ব চেম্বারে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাধ্য করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত ব্যবসায়িক স্বার্থ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর অবস্থা সুস্পষ্ট না জেনেই ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চিকিৎসার নামে প্রকাশ্য বাণিজ্য চালাচ্ছে। রোগীর প্রয়োজন বিবেচনা না করেই অযথা ব্যয়বহুল বিভিন্ন টেস্ট লিখে দেওয়া এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে। কারণ এই সব টেস্টের পেছনে লুকিয়ে আছে কমিশনের কদর্য চক্র।
স্বনামধন্য চিকিৎসক পর্যন্ত এই অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের সাথে যুক্ত হওয়ায় রোগীরা ন্যায্য চিকিৎসা না পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা যেন লুটপাটের নতুন খাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসার এই জঘন্য প্রবণতা চলতে পারে না। রোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে কড়াকড়ি নজরদারি, মূল্যতালিকা নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদিত টেস্টের তালিকা প্রণয়ন এবং কমিশনভিত্তিক অনৈতিক লেনদেন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে এ অবস্থা বন্ধে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কমিশন বানিজ্যের সাথে জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরও প্রয়োজন চিকিৎসার আগে বিকল্প মতামত নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষায় না যাওয়ার সাহস দেখানো।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, এটিকে ব্যবসার অনৈতিক প্রতিযোগিতায় পরিণত করা বন্ধ হোক। দেশের প্রতিটি রোগী যেন স্বচ্ছ, সৎ ও যথাযথ চিকিৎসা পেতে পারে এটাই সবার প্রত্যাশা।
-মো. মোশারফ হোসাইন
নকলা, শেরপুর