‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই শ্লোগানকে ধারন করে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোঠাইল বাজার এলাকার অসহায় এক গর্ভবতী মায়ের পাশে সহায়তার মনোভাবে দাঁড়িয়েছে রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্থানীয় স্বোচ্ছাসেবকগন।
জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার গোঠাইল বাজার এলাকার গর্ভবতী মা বিলকিসের স্বামীর মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ হয়ে ব্রেইন স্ট্রোক করেন। অর্থ সংকটের কারনে সঠিক চিকিৎসার অভাবে আজ সে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এর ঠিক আগের মাসেই বিলকিস গর্ভধারন করেন। স্বামী পাগল হয়ে রাস্তায়! নেই পরিবার চালানোর মতো সহায় সম্বল। বিলকিস আশ্রয় নেন তার বাবার বাড়ি। বাবার বাড়ি বলতে নদীর পাড়ে অন্যের জমিতে বাৎসরিক ভাড়া ভিত্তিক তৈরি একটি ঘর। যে ঘরে একসাথে বিভিন্ন এলাকার অসহায় ৮৯ জন সদস্য মানবেতর ভাবে দিনাতিপাত করছেন।৮৯ জনের মধ্যে গর্ভবতী মা বিলকিস একজন।
এ বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের জামালপুর শাখার স্বেচ্ছাসেবকদের নজরে আসে। পরে তারা একটি জরুরি সভা আহবান করেন এবং সভায় ওই অসহায় গর্ভবতী মায়ের পাশে সহায়তার মনোভাবে দাঁড়নোর সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বসম্মতিক্রমে অসহায় মায়ের জন্য অন্তত এক মাসের বাজার খরচ, সিজারের জন্য রক্ত দান, মা ও নবজাতকের জন্য নিয়মিত পরিদানের পোশাক ও শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়।
রক্ত দিয়ে পাশে ছিলেন রক্তসৈনিক জামালপুরের সহযোদ্ধা সুজন মিয়া, সিজার খরচ বহন করেছেন জুয়েল আহমেদ। এছাড়া মা ও নবজাতকের পোশাক-শীতবস্ত্র ও খাদ্য সহযোগিতায় যাদের নাম উল্লেখ্য করার মতো তারা হলেন, ইল্লাল, হিমু, শিপন মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, হানি, আম্বিয়া, আল আমিন, হাসানুল ইসলাম, তানজিলা আক্তার, আলী রেজা, সাইফুল, রনি, এস.এম. নজরুল, জয় এসআর, লিমন, দিপালী আপুসহ সেলিনা ড্রাই হাউজ, মাসুদ কম্পিউটার ও মদিনা ইলেকট্রনিকের স্বত্তাধিকারীগন।
রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন রাজু জানান, ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তাঁরা মানব সেবায় নিয়োজিত আছেন। সামর্থ অনুযায়ী তাঁরা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীসহ অসহায় পরিবারের পাশে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তাছাড়া বিনামূল্যে রক্তের গ্রæপ নির্র্নয়সহ স্থানীয় ভাবে বা সল্প ব্যায়ে নিরাময়যোগ্য এমন সকল রোগের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দিয়ে আসছেন তাঁরা। এছাড়াও দেশ ও জাতির কল্যাণে যেকোন স্বেচ্ছাসেবা মূলক কাজে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসেছন। জনকল্যাণ মূলক এধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন রাজুসহ ফাউন্ডেশনের অনেকে।
আল আমিন রাজু বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা বরাবরই নিজেদের সামর্থ মোতাবেক অসহায়দের পাশে থেকে নতুন পথের দিশারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ভালো কাজের বদলা নিশ্চয়ই ভালো কিছু পাবেন বলে তার বিশ্বাস।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানবতা থেমে থাকে না; সহায়তার মনোভাবে একটি হাত বাড়িয়ে দিলে, অন্য একটি জীবন নতুন আশার আলো দেখতে পারে। আর এই বিশ্বাসকে বুকে ধারন করেই এগিয়ে চলছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা। তরুণদের স্বেচ্ছাসেবা মূলক কাজ সমূহ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সর্ব মহলে।’