দেশে বিভিন্ন কারনে স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, স্পাইনাল ইনজুরিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেক মানুষ সঠিক ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার অভাবে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন। এসব রোগে শুধু ওষুধ বা অস্ত্রোপচারই যথেষ্ট নয়। রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন চিকিৎসা অপরিহার্য। ফিজিক্যাল মেডিসিন তথা থেরাপির মাধ্যমে তাদেরকে পুনর্বাসন করা সম্ভব। পুনর্বাসন চিকিৎসাকে জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী করতে চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, পরিবার ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এরইমধ্যে জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন দিবস-২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের সব জেলা-উপজেলা হাসপাতালে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও পুনর্বাসন সেবা চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও দেশে অনেক বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন চালু করা হয়েছে। তবে ব্যয় বহুল হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কঠিন। সরকারি ভাবে মেডিকেল কলেজে এবং জেলা-উপজেলার সরকারি হাসপাতাল সমূহে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন চালু করা হলে, সব পেশা শ্রেণীর মানুষ খুব সহজেই অতিগুরুত্বপূর্ণ সেবাটি নিতে পারবেন।
‘ডিসএবিলিটি মানেই ডিজএবল নয়’; এটি ‘ডিফারেন্ট এবিলিটি’। ডিসএবিলিটি যেন ডিজএবল-এ রূপ না নেয়ে, এরজন্য আমাদের সীমাবদ্ধতার পাশে কিছু সক্ষমতা যোগ করলে অক্ষমতা অনেকাংশে দূর হয়ে যাবে। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেই সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে মানুষকে নতুন শক্তি, নতুন দক্ষতা ও নতুন আশার আলো দিতে পারে। জীবনে নতুন করে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করতে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দিতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে থেরাপি সুবিধা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। দেশ-জাতির উন্নয়নে সকল মেডিকেল কলেজসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা চালু করা হোক। তবে এই সেক্টরকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু বিভাগ চালু ও চিকিৎসক নিয়োগ নয়; থেরাপিস্ট, নার্স, মনোবিজ্ঞানী ও পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
-মো. মোশারফ হোসাইন
নকলা, শেরপুর