শেরপুরের নকলায় বাল্যবিবাহের আয়োজন করার অপরাধে কনের অভিভাবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া সত্ত্বেও বাল্যবিবাহের আয়োজন করার সুষ্পষ্ট প্রমাণিত হওয়ায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ (১) ধারায় কনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দিবেনা মর্মে কনের বাবার মুচলেকা নেওয়া হয়।
কেউ যেন তাদের ছেলে-মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে বিবাহ দিতে না পারেন এর জন্য সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানানো হয়। এসময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি জানান, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই বাল্যবিবাহ নিরোধ ও বন্ধে উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্টরা সদা তৎপর রয়েছেন। উপজেলার কোথাও বাল্যবিবাহের আয়াজন করা হলে বা বাল্য বিবাহ দিলে এবং এর সুস্পষ্ট প্রমান পওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিভাবক, বর ও আয়োজকসহ প্রয়োজনে নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী)-দেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়েদেন। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে নকলাকে শেরপুর জেলার প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।