বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

পৃথিবীর একমাত্র উড়ন্ত স্তন্যপায়ী প্রাণি বিলুপ্তির পথে

মো. মোশারফ হোসাইন:
  • প্রকাশের সময় | শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৩২১ বার পঠিত

পৃথিবীর অদ্ভুতুরে প্রাণির গুলোর মধ্যে বাদুড় অন্যতম। বাদুড় পৃথিবীর একমাত্র উড়ন্ত স্তন্যপায়ী প্রাণি। মানুষের অসতর্কাসহ বিভিন্ন কারনে এই প্রাণিটি আজ বিলুপ্তির পথে। ফল খেকো ও মশা খেকো বাদুড়ের প্রজাতি গুলোকে রক্ষা করা উচিত। এই বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

বিগত শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন তৈরিসহ মানুষের বিভিন্ন চাহিদা মিটানোর প্রয়োজনে ব্যাপক পরিমাণে গাছ উজাড় করার কারনে আজ খুব অল্প সংখ্যক বিশালদেহী ফলখেকো বাদুড় টিকে আছে। ক্রমেই বাদুড় ও মানুষের নৈশযুদ্ধের কথা ইতিহাসের অংশে পরিণত হচ্ছে।

আগে আবাসিক এলাকায় বাদুড় সবচেয়ে বেশী দৃশ্যমান ছিল। একসময় বিকেল হলেই নিশাচর বাদুড়ে ভরে যেতো আকাশ। এরমধ্যে ডাইনি বাদুড়, ক্ষুদে চামচিকা ও বামণ চামচিকা ছিলো বেশি। তারা সাধারণত পরিত্যক্ত ভবনের আঁধার কোণায় লুকিয়ে থাকত, রাতে মূলত খাবারের সন্ধানে বাহির হত এবং মানবরাজ্যের জন্য সমস্যা তৈরি করতনা। বিশেষ করে গোধূলিতে এদের বেশি দেখা যেতো। এদের বড় বড় দুটো কান ও ছাতার মতো দেখতে অদ্ভুত দুটো পাখনা আছে।

পৃথিবীতে প্রায় ১১০০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। যা সব স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রায় এক চতুর্থাংশ। প্রায় ৭০ ভাগ বাদুড় পতঙ্গভুগী। বাকিরা ফলমূল খেয়ে জীবন ধারন করে। নিশাচর এই প্রাণি দিনের বেলায় অন্ধকার স্থানে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। তথ্য মতে, এই প্রাণিটির আবির্ভাব হয়েছিল প্রায় পাঁচ কোটি ২৫ লাখ বছর আগে।

এক জরিপের তথ্য মতে, পৃথিবীতে এক হাজার ২৪০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। এসব বাদুড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ বাদুড় কীটভুক্ত। কীট খেয়ে তারা বিশ্বের গাছপালা ও ফসলের উপকার করে বা ভারসাম্য রক্ষা করে। বাকি ৩০ শতাংশ বাদুড়ের মধ্যে বেশির ভাগ ফলাহারী। মাছখোর বাদুড়রা কীটপতঙ্গ নয় বরং জন্তু-জানোয়ারের ওপর নির্ভরশীল।

আগে গ্রাম গঞ্জের আনাচে-কানাচে ছোট-বড় বিভন্ন জাতের ও নানান ধরনের বাদুড় দেখা যেত। এখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে বাদুড় একটি বিপন্ন প্রাণি। কীটনাশক ব্যবহারে বাদুড়ের প্রধান খাদ্য পোকামাকড় ধ্বংস হচ্ছে। কীটনাশকের প্রভাব শুধু বাদুড়ের উপর নয়, সকল প্রাণির উপর পড়ছে। এটা ব্যবহারে ফল ও ফসল হয়ে উঠছে বিষাক্ত। জীববৈচিতত্র্য যদি এভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ে, কোন একসময় মানুষসহ অন্যান্য প্রাণি যে অস্তিত্বের সংকটে পড়বেনা, তা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যায়না। যদিও এই প্রাণি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাদুড় দিবস পালিত হয়। ২০১১ সাল ছিল আন্তর্জাতিক বাদুড় বর্ষ।

বাদুড় রাতের আধারে চুপিসারে আমাদের ফল ও ফসলের কিছু ভাগ নিলেও, বুনো গাছপালার পরাগায়ণ, বীজ-বিস্তরণ ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের দ্বিগুন সহায়তা করে থাকে। এটি কলা, অ্যাভোকাডো আম, লিচু, পেয়ারা ও সফেদা ও আমের মতো বিভন্ন ফলসহ অনেক উদ্ভিদের পরাগায়নের ক্ষেত্রে বাদুড় প্রধন ভূমিকা পালন করে। পাঁচশ’রও বেশি উদ্ভিদ পরাগায়নের ক্ষেত্রে বাদুড়ের উপর নির্ভর্শীল। বাদুড় বিলুপ্ত হলে কলা, অ্যাভোকাডো ও আমের মতো ফল ও ফসলগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাদাম, ডুমুর ও চকলেটের প্রধান উপাদান কোকোর মতো ফসলের বীজ ছড়াতে বাদুড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এরা বট, আম, ছাতিম, রেইনট্রি, গগণশিরীষ, নারিকেল, তাল, সুপারি, খেজুর গাছে ও বাঁশঝাড়ে দলবদ্ধ ভাবে ঝুলে থাকে। এরা চলার পথে প্রতি সেকেন্ডে উচ্চমাত্রার শব্দতরঙ্গ তৈরি করতে পারে। এই তরঙ্গ শিকারের গায়ে লেগে প্রতিধ্বনি হিসেবে বাদুড়ের কাছে ফিরে আসে। আর ওই প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগিয়ে বাদুড় পোকামাকড়ের অবস্থান সনাক্ত করতে পারে এবং শিকার করে।

একটি প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ বাদুড় ঘণ্টায় ৬০ মাইল বা এর বেশি গতিতে উড়তে পারে। এটিই পৃথিবীর দ্রুততম স্তন্যপায়ী প্রাণি। বাদুড় সাধারণত ৩০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকে। বাদুড়ের গর্ভধারণকাল ৩ থেকে ৫ মাস। শীতের শেষ বা গ্রীষ্মের শুরুতে বাচ্চা প্রসব করে। মা বাদুড় বছরে একবার বাচ্চা দিয়ে থাকে। বাচ্চাগুলো প্রাপ্ত বয়স্ক নাহওয়া পর্যন্ত প্রথম ২-৩ মাস মায়ের শরীরেই সেঁধে থাকে।

বাদুড় হলো মশা মারার প্রাকৃতিক মেশিন। প্রতি রাতে এই প্রাণিটি নিজের শরীরের ওজনের সমপরিমাণ পোকামাকড় খেয়ে সাবাড় করতে পারে। সুতরাং ক্ষতিকর পোকা দমনে বাদুড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাদুড় সাধারণত ফল ও ফলের রস, পতঙ্গ, মাকড়সা, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সরীসৃপ ও পাখি, ক্ষুদে বাদুড় ও অন্যান্য ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। নিশাচর এই প্রাণিটি প্রতি ঘণ্টায় সহ¯্রাধিক মশা এবং এ জাতীয় পোকামাকড় খেয়ে থাকে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন কারণে বাদুড় অস্থিত্বের হুমকির সম্মূখিন। ফলশ্রুতিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু মশার ভয়াবহ বিস্তার দেখে দিয়েছে। দিন দিন বাড়ছে মশা বাহিত বিভিন্ন রোগ বালাই।

এক গবেষণার জরিপে জানা গেছে, ১৫০টি প্রাপ্ত বয়স্ক বাদুড় বছরে ফসলের জন্য ক্ষতিকর যে পরিমাণ পোকা খেয়ে সাবাড় করে, তা পৃথিবীর কৃষকদের অন্তত এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ডেঙ্গু বা চিকুগুনিয়া ও ম্যালিরিয়ার মতো রোগের বিস্তার ঘটে মশা থেকে। মশা দমন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই বাদুড় নামক স্তন্যপায়ী প্রাণিটিকে রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন ফল ও ফসলের পরাগায়ন নিশ্চিত করতে বাদুড়ের জুড়ি নেই। তাই বাদুড়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে, আমাদের অস্তিত্বও হুমকিতে পড়বে বলে পরিবেশ ও প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102