বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

৬ ডিসেম্বর শ্রীবরদী হানাদার মুক্ত দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় | বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৯০ বার পঠিত

আজ ৬ ডিসেম্বর, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিত্র বাহিনীর তীব্র আক্রমনে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শ্রীবরদী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। তবে এ যুদ্ধে পাক হানাদারদের হাতে শ্রীবরদীর অন্তত ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। হত্যা করা হয় আরও এলাকার অনেককে।

তথ্য মতে, ৪ ডিসেম্বর ধানুয়া কামালপুর মিত্র বাহিনীর আক্রমণে হেরে যায় পাকহানাদার বাহিনী। পরে পাকসেনারা ছুটে আসে শ্রীবরদীর দিকে। এ সংবাদ পান ১১ নম্বর সেক্টরের কর্নেল আবু তাহের। তার নেতৃত্বে গেরিলা সৈনিকদের নিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধারা। কর্নেল তাহের আরো জানতে পারেন ৫ ডিসেম্বর রাতে কামালপুর থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বকশিগঞ্জ ও শ্রীবরদী হয়ে পাকিস্তানি মেজর আইয়ুব জামালপুর যাবে। সেই সূত্র ধরে শ্রীবরদীর হতে বকশিগঞ্জ সড়কের টিকরকান্দি এলাকায় সন্মুখ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। মেজর আইয়ুব সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে সেই রাস্তায় আসার পথে শুরু হয় যুদ্ধ। রাতভর চলে মুখোমুখি যুদ্ধ। বিস্ফোরিত হয় স্থলমাইন। চলে গুলি বর্ষণ। এলাকার লোকজন ভয়ে ঘরবাড়ি ফেলে ছুটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ে। অবশেষে এ যুদ্ধে নিহত হয় মেজর আইয়ুবসহ পাকসেনারা।

পাকসেনাদের পরাজিত হওয়ার এ খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ভোরে শতশত লোক জড়ো হয় শ্রীবরদী হতে বকশীগঞ্জ সড়কে। সবার কণ্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। এ সময় সেখান থেকে দলে দলে উচ্ছ্বসিত মানুষ আর মুক্তিযোদ্ধারা আসে শ্রীবরদী বাজারের পুরাতন হাসপাতাল মাঠে। এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ওইসব মুক্তিকামী সাধারণ মানুষসহ মুক্তিযোদ্ধারা। সেই পাক হানাদার বাহিনীর পরাজিত হওয়ার বর্ণনা দেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক মুন্সী (বীর প্রতীক বার)। তিনি জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দিন ছিল শ্রীবরদীর জন্যে বিজয়ের দিন। এ যুদ্ধে মেজর আইয়ুবসহ পাকসেনারা পরাজিত হওয়ার কারণে শেরপুর ও জামালপুরের পাকসেনারা আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু ছালেহ মো. নুরুল ইসলাম হিরু জানান, ওই সময় কাটাখালি, ফুলকারচর, তেনাচুড়া, টিকরকান্দি, রাঙাজানসহ বিভিন্ন স্থানে খ- খ- যুদ্ধ হয়েছে। পাকসেনারা অনেক বাড়ি ঘরে হামলা করেছে। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক নারী হয়েছে ধর্ষণের শিকার। একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলো আজো মানুষ ভুলতে পারেনি। স্বাধীনতাযুদ্ধে পৌর শহরের থানা রোডে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের বাসায়, ভায়াডাঙ্গা, বালিজুরি, রাঙাজানসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান ও বধ্যভূমি। এসব কবরস্থান ও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষনের চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও স্থানীরা মিলে শ্রীবরদীর বধ্যভূমি ও শহীদদের কবরস্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। এ দিনটি আরো বর্ণাঢ্য করে জাতির সামনে তুলে ধরতে ও নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় বিকশিত করতে সচেতন মহলসহ সকলকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102