শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

নকলায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে শেষ মূহুর্তের কেনাকাটা

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৯ বার পঠিত

ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চাই নতুন জামা কাপড়, জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী। মুসলিম সকল পেশা শ্রেণির মানুষের নতুন কিছু একটা না হলে যেন ঈদ-ই হয় না। প্রথম দিকে কেনাকাটা করলে সবকিছুই সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় এমন বিশ্বাসে শেরপুরের নকলার অনেকেই রমজানের প্রথমার্ধেই ঈদের কেনাকাটার কাজ শেষ করেছেন। তবে এখনো গভীর রাত পর্যন্ত চলছে শেষ মূহুর্তের কেনাকাটা। অনেক টেইলার্স (দর্জি) অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা যেসব অর্ডার নিয়েছেন তা ঠিক সময়ে ডেলিভারী দিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দর্জি শ্রমিকরা। শেষ রোজার (শুক্রবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নকলা মধ্যবাজারে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ দোকান খোলা রয়েছে এবং দিনের মতো বেচা-কেনা হচ্ছে।

রোজার প্রথমার্ধে থান বা কাটা কাপড়ের দোকান গুলোতে লক্ষণীয় ভীড় ছিল। এক সপ্তাহ যাবৎ থান কাপড়ের দোকানে ভীড় কমতে শুরু করেছে; তবে ভীড় বেড়েছে অন্যসব দোকানে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে ক্রেতাসাধারণের ভীড় লেগেই থাকছে। বড় বড় দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত কোথাও ক্রেতাদের উপস্থিতির কমতি নেই। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে নতুন কিছু কেনার জন্য হন্যে হয়ে ছুটছেন ক্রেতারা। অনেক দোকানে ক্রেতারা বসার স্থান পাচ্ছেন না, ঈদ বলে কথা! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেও যেন ক্রেতারা তুষ্ট।

কাপড় বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকে জানান, শহরবাসী বা শহরের আশেপাশের লোকজন সাধারণত রাতে কেনাকাটা করতে অপেক্ষাকৃত আরাম দায়ক মনে করেন। তাই রমজান মাসে স্বভাবাকি কারনেই প্রায় শেষ রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। অনেক দোকানের বিক্রেতারা বিক্রি শেষে পরের দিনের জন্য দোকানের মালামাল প্রস্তুত করে বাসাবাড়িতে ফিরতে শেষ রাত হয়ে যায়। অনেক বিক্রেতারাকে সাহরী খেয়ে পরে ঘুমাতে যেতে হয় বলে অনেকে জানান। তারা আরো জানান, সারা বছর বেচা-কেনা যেমনই হোক নাকেন, রমজান মাসে কাপড়ের বেচাবিক্রি বেশি হয়। ঈদুল ফিতরের মাত্র দুই মাস পরে ঈদুল আযহা হওয়ায় তখন নতুন কাপড় বেচা-কেনা কম হয়।

ক্রেতাদের সাথে কথাবলে জানা গেছে, নির্ধারিত বাজেটে কেনাকাটা করা তাদের সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা রীতিমত হিমশিম খেলেও সাধ্যমত নতুন পণ্য কিনে বাড়ী ফিরছেন সবাই। বিভিন্ন দোকানিরা জানান, গত ঈদের তুলনায় এবার বেচা-কেনা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে কৃষি পণ্যের দাম ভালো থাকায় কেনা কাটায় পিছিয়ে নেই কৃষক পরিবারের সদস্যরা। এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে বিভিন্ন দেকানে ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর কাপড়সহ আন-কমন ডিজাইনের সকল পন্যের চাহিদা বেশি।

কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, এবার অরগেন্ডি, আরং, স্ট্যান্ডার্ট ও ওয়ান প্লাসসহ বিভিন্ন থ্রি-পিস, টু-পিস বেশি চলছে; আর শাড়ীর মধ্যে পাকিজা, ওয়ান প্লাস, বিপি প্লাসসহ নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন শাড়ী বেশি বেচা-কেনা হচ্ছে। যার দাম ৬০০ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। আমানত শাহ, ওন্ডারফুল, স্ট্যান্ডার্টসহ বিভিন্ন কোম্পানীর লুঙ্গি বেশ বিক্রি হচ্ছে; যার দাম ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে। থান বা কাটা কাপড়ের মধ্যে পাকিজা ও বেক্সি ভয়েল, পবলিন আশাতীত বিক্রি হচ্ছে; যার দাম গজ প্রতি ৭০ টাকা থেকে ২২০ টাকা। আর জরটের দাম গজ প্রতি ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। পাজামা-পাঞ্জাবী ও প্যান্ট-শার্টের কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে অনেক। তবে গত ৩-৪ দিন ধরে সেলাই করার সমস্যায় থান বা কাটা কাপড়ের চেয়ে রেডিমেড পোশাকের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকছেন। এছাড়া লুঙ্গি, শাড়ী, গেঞ্জি, তোয়ালে, বিছানার চাদর, বিয়ের শাড়ী-ওড়নার কদর বরাবরে ন্যায় রয়েছে।

প্রসাধনী বিক্রেতারাও দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না। প্রসাধনী দোকানগুলোতে সব শ্রেণী ও বয়সের নারীদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষনীয়। জুতার দোকান গুলোতেও এর ব্যতিক্রম নয়। উপজেলার চার শতাধিক টেইলার্সে প্রচুর অর্ডার নিয়ে ক্রেতারা ভীড় করলেও অনেক নামিদামি টেইলার্স আর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন আরও এক সপ্তাহ আগে থেকেই।

তাছাড়া নির্বিঘ্নে কেটাকাটা ও চলাচলের সুবিধার্থে কয়েক বছর আগেই সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সারা শহরে যথেষ্ঠ আলোর ব্যবস্থা করেছে পৌর কতৃপক্ষ। এরপর থেকে প্রায় সাড়ারাত নকলা শহরে লোকজনের লক্ষণীয় উপস্থিতি থাকে। অন্যদিকে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102