শেরপুরের নকলা উপজেলার এক কিশোরী সাদিয়া দীর্ঘদিন ধরে শ্রবণ সমস্যায় ভুগছিল। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও হিয়ারিং এইড (শ্রবণযন্ত্র) সংগ্রহ করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’-এর উদ্যোগে তার শ্রবণশক্তির উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
রবিবার সমিতির নকলা ব্রাঞ্চের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক-এর অর্থায়নে শ্রবণপ্রতিবন্ধী সাদিয়ার হাতে একটি উন্নতমানের হিয়ারিং এইড (শ্রবণযন্ত্র) হস্তান্তর করা হয়। ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষানবিশ মডেলের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
হিয়ারিং এইড হস্তান্তর উপলক্ষে নকলা ব্রাঞ্চ কার্যালয়ে প্রকল্প সংগঠক মো. নুর হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাইমা ইসলাম পিংকি।
ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মো. মাজহারুল ইসলাম চঞ্চলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, প্রজেক্ট ফোকাল পার্সন (পিএফপি) লুৎফর রহমান এবং ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) চিন্ময় রায়। এছাড়া ব্র্যাক নকলার প্রোগ্রাম অফিসার (পিও) জাহিদ হোসেন, নকলা উপজেলা দর্জি কল্যাণ সমিতির সভাপতি রাসেল সরকার, স্বাস্থ্য সহকারী (অদা. পরিসংখ্যানবিদ) হাফছা আইরিন মিলি, সাদিয়ার এমসিপি (উস্তাদ) নিজাম উদ্দিন, নকলা প্রেসক্লাবের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আমিনসহ সাদিয়ার অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংগঠক নুর হোসেন জানান, প্রথমে সাদিয়ার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে একটি উন্নতমানের হিয়ারিং এইড প্রদান করা হয়। যন্ত্রটি ব্যবহারের পর সাদিয়া এখন স্বাভাবিকভাবে কথা শুনতে ও শিক্ষকদের পাঠ অনুধাবন করতে পারছে।
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কর্মকর্তারা জানান, সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও সমিতির কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলেন, অর্থাভাবে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগ ও ব্র্যাকের সহায়তায় আজ সাদিয়ার শ্রবণশক্তির উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এ সহায়তা না পেলে মেয়ের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ত। তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন ও সমিতিকে এমন মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সবশেষে শ্রবণপ্রতিবন্ধী সাদিয়ার কানে সঠিক ভাবে হিয়ারিং এইড (শ্রবণযন্ত্র) পড়িয়েদেন প্রধান অতিথি ডা. নাইমা ইসলাম পিংকি।
উল্লেখ্য, স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির তত্ত্বাবধানে এবং ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষানবিশ মডেলের মাধ্যমে নকলায় বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ২৫ জন উস্তাদের মাধ্যমে ৮টি ট্রেডে মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৯ জন নারী, ২০ জন পুরুষ ও ১ জন ট্রান্সজেন্ডার প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অন্তত ৫ জন প্রতিবন্ধী, যারা প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।