শেরপুরের নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বার্ষিক সাধারণ সভা (২০২৫-২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাতে পৌরসভার পাইস্কা বাইপাস মোড়ের একটি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি উপজেলা শাখার আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শাখার সভাপতি ইকরা বুক হাউজের স্বত্বাধিকারী এফ.এম ওবায়দুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফিয়া লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এমদাদিয়া লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সৈনিক লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী সুলতান আহমেদ ও নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটি জেলা শাখার সদস্য সচিব ইসলামিয়া লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ।
ঈশান এন্টারপ্রাইজ’র স্বত্বাধিকারী রবিউল করিম মিলন-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নারয়নখোলা বাজারের ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী ইবনে খালিদ সরকার, গণপদ্দী বাজারের লাবন্য লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল ইসলাম লাঞ্জু, মাদ্রাসা লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক’র প্রতিনিধি (ছেলে) জুবায়ের হোসেন এবং লেকচার পাবলিকেশনের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের প্রতিনিধি মো. রাকিব ও ক্যাপটেন পাবলিকেশনের প্রতিনিধি সোহেল রানা প্রমুখ।
সভায় নতুন বছরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালার সকল বিধি-বিধান বাস্তবায়নের লক্ষে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তারা জানান, যেকোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের অন্যতম সহায়ক হলেন ক্রেতা। তাই ক্রেতাদের স্বার্থ ঠিক রেখে ব্যবসা পরিচালনার উপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া নীতিমালার বাহিরে কোন কর্মকান্ড সংগঠিত হলে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রচলিত বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বক্তারা আরো জানান বিভিন্ন পাবলিকেশন বা প্রকাশানির প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় রাখাও জরুরি। কারন তাদের মাধ্যমে আমাদের ব্যবসায়ীক মাঠ সুন্দর হয়। তাই একে অপরের সাথে সমন্বয় সাধনের লক্ষে সুনজর রাখার পরামর্শ প্রদান করেন তারা। কাগজের মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে হুমকির মুখে থাকা পুস্তক প্রকাশনা এবং কাগজের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শিল্প সমূহকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।
কাগজের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সিন্ডিকেট থেকে প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘কাগজের উচ্চমূল্যের কারণে কাগজ সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ, পত্র-পত্রিকা, পড়ালেখা, সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্য রচনা, নতুন লেখক সৃষ্টি এবং প্রকাশনা শিল্পের ছাপা ও অন্যান্য শাখা মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম। এছাড়া নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়বে। পাশাপাশি কাগজে ছাপা বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে। আর সেটা ঘটলে আমাদের মেধাগত ও সৃষ্টিশীল উন্নয়ন ব্যহত হবে। ফলে বাহ্যিক উন্নয়ন অনেকাংশই অর্থহীন হয়ে পড়বে, যার সুদূরপ্রসারী পরিণতি হবে ভয়ানক। তাই দ্রুততম সময়ে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানিকে ভ্যাটমুক্ত ঘোষণা করার পাশাপাশি দেশের সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাগজকে রিসাইকেলিং কাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখা, কাগজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি। শুল্ক হ্রাস করা ছাড়াও সরকারকে কাগজ শিল্পে যথেষ্ট ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে।’
এসময় নকলা পশ্চিম বাজার জোড়াব্রীজ পাড়ের কাইফ খেলাঘর ও লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী শাহ মহিউদ্দিন লাভলু, বিনিময় লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী আবু বক্কর, চন্দ্রকোনার ঈশান লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম ও বিসমিললাহ লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী খোকা মিয়া’র প্রতিনিধি (ছেলে) শাওন মিয়া, নিউ বুক হাউজ’র স্বত্বাধিকারী আব্দুল মোতালেব, গৌড়দ্বার বাজারের শফিক লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারীগন উপস্থিত ছিলেন।