আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ১৪৪ শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) এর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী-এঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড। রবিবার সন্ধ্যায় কাঙ্খিত এই রায় প্রদান করা হয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে স্বগর্বে নির্বাচনী মাঠে ফিরলেন বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে নকলা ও নালিতাবাড়ীর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাহিম চৌধুরীর নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
এর আগে ৩ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এর কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত নাগরিকত্বের (বাংলাদেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া নাগরিকত্ব থাকা) অভিযোগে মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। এরপরে ১৬ জানুয়ারি পুনরায় শুনানি শেষে আপিলের রায় দেওয়ার কথা থাকলেও, সময় স্বল্পতার কারণে ১৮ জানুয়ারি রবিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ডের রায়ে তার প্রার্থিতাকে বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তার আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থীতা বৈধ হওয়ায় শেরপুর-২ (১৪৪, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মনোনীত প্রার্থী নালিতাবাড়ীর মো. গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মনোনীত প্রার্থী নকলার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মনোনীত প্রার্থী নালিতাবাড়ীর মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস ও এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী নালিতাবাড়ীর আব্দুল্লাহ বাদশা এই চারজন বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটে থাকায় এবি পার্টির আব্দুল্লাহ বাদশার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-২ আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন; এরমধ্যে নির্ধারিত সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ১ জন ও জাতীয় পার্টির ১ জন মনোনয়নপত্র জমা করেন। এছাড়া ৫ মিনিটের ব্যবধানে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র জমা করতে ব্যর্থ হন। যদিও হাইকোর্টে আপিলের রিট শুনানির পরে ১৪ জানুয়ারি বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান তার মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে জমা নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম শেষ হয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল মোতাবেক প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করাসহ প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং প্রচার প্রচারনা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা (০৭:৩০মিনিট) পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে সাতটা (০৭:৩০মিনিট) হতে বিকেল সাড়ে ৪টা (০৪:৩০মিনিট) পর্যন্ত।