অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে শেরপুরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ারোধে শিক্ষার মনোন্নয়ন বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান পটেনশিয়াল সাসটেইনেবিলিটি (ডপস)’ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় শেরপুর শহরের গৌরীপুরে অবস্থিত ডপস ক্যাডেট মেসে অবস্থানকারী ১২০ মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণে সংগঠনটি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
এ উপলক্ষে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডপস ক্যাডেট মেস প্রাঙ্গনে আর্থিক সহায়তা বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ডপস’র সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া সুলতানা-এর সভাপতিত্বে এবং ডপস’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শাহীন মিয়া (বিএসপি)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি কবি-সাংবাদিক আব্দুর রফিক মজিদ।
বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেনো শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে সেই লক্ষ্যে ডপস এর শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক এসব কার্যক্রম দেশব্যাপি সুনাম অর্জন করছে। ডপস আজ দেশের সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় সংগঠন তথা মডেলে পরিণত হয়েছে।’ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
ডপস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শাহীন মিয়া (বিএসপি) সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যতা শিক্ষা গ্রহনের কোনো বাধা হতে পারেনা। যেকোন উপায়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা গ্রহন করে ভালো মানুষ হয়ে সমাজ ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে আলোকিত মানুষ হয়ে নিশ্চয়ই আলোকিত সমাজ গড়ে তুলবে। তিনি আরো বলেন, জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে এবং আলোকিত জীবন গড়তে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই একটি সুন্দর এবং সুশিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ ও ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ প্রাপ্ত শিক্ষার মনোন্নয়ন বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডপস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সহযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত, ঝরে পড়া ও অসচ্ছল পরিবারের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী পুনরায় স্কুলগামী হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছেন। জুনিয়র মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ও ফরম ফিলাপে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা প্রদান ও তাদের মেধাকে বিকশিত করে উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়াই ডপস-এর মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডপস এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে। ডপস-এর পরামর্শ ও সহায়তা শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়তে সকলের দোয়া, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন ডপস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শাহীন মিয়া। সবশেষে পরীক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ডপস সদস্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন।