অভাব আর অনিশ্চয়তার মাঝেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধার জোরে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর শিক্ষার্থী টি.এম তাসনীম তাপসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এলো নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থা। অর্থাভাবে মেডিকেল কলেজে তার ভর্তি নিয়ে যে দুশ্চিন্তার তৈরি হয়েছিল, তা অবসান করেছে মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কিশোরগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজে তাপসীর ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফি তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাপসীর বাবা মো. মোশরাফুল ইসলামের হাতে ভর্তি ফি বাবদ ২০ হাজার টাকা তুলেদেন শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ মো. নূরুল ইসলাম হিরো। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শক্তিপদ পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সমাজসেবক আবু শরীফ কামরুজ্জামান-এর মানবিক উদ্যোগে ও সার্বিক সহযোগিতায় দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান টি.এম তাসনীম তাপসীর স্বপ্নের উচ্চশিক্ষার পথে একটি বড় বাধা দূর হলো। সমাজে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধুমাত্র আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। তাই নকলা অদম্য মেধাবী সহায়তা সংস্থার এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগে সকল বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আবু শরীফ কামরুজ্জামান।
শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, ‘ আমরা চাই কোন মেধাবী যেন কোন বাধার কারনে থেমে না যায়। তাপসীর মতো মেধাবীদের পাশে আমার ছিলাম, আছি এবং থাকবো।’ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সহায়তা করা হচ্ছে না। প্রত্যন্ত এলাকার খেটে খাওয়া বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া মেধাবীদের সফলতা দেখে যেনো অনেকে অনুপ্রাণিত হয়, এই প্রত্যাশা করি। এই লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী এই তাপসীর সফলতা দেখে অনেক শিক্ষার্থী অনুপ্রাণিত হবে বলে তিনি মনে করছেন।
মেডিকেল কলেজে ভর্তি ফি বাবদ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত তাপসীর বাবা মোশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে তার ভর্তি নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ কয়েকজন মানবিক মানুষকে পাশে পেয়ে আমরা নতুন করে পথ চলার সাহস পেলাম।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে অদম্য মেধাবী টি.এম তাসনীম তাপসী জানান, সমাজের মানবিক মানুষের অসীম ভালোবাসা, দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা তাকে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। আজ নতুন করে আরও অনুপ্রাণিত হলেন বলে তিনি জানান। ভবিষ্যতে মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করতে একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক চিকিৎসক হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাপসী। এর জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।