শেরপুরের নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গণি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সে উপজেলার ৭নং টালকী ইউনিয়নের বিবিরচর বাজিতবাড়ী এলাকার মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গণি প্রায় দুই বছর ধরে ব্রেইন স্টোক করে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
বুধবার সকাল ১১টার সময় উপজেলার টালকী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চৌকস পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম মরহুমের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানাতে থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।
তথ্য মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গণি-এঁর লাল মুক্তিবার্তা তালিকা নম্বর ০১১৪০৩০০৬৬, গেজেট তালিকা নম্বর ৯০৬ এবং কল্যাণ ট্রাস্ট তালিকা নম্বর ১৫৭৪৪। জাতীয় পরিচয়পত্র মোতাবেক মৃত্যুর দিনে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর ৭ মাস ২১ দিন। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৪ মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি শিক্ষানুরাগী হিসেবে সবার কাছেই সুপরিচিত ছিলেন। নিজ উদ্যোগে তিনি নয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম পোয়াভাগ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নকলা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় সংবাদকর্মী, নকলা অদম্য মেধাবী সহায়তা সংস্থা, রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল আলাদাভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।