শেরপুরের নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ’র মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মরহুমের বাসভবনের পাশে চৌকস পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম মরহুমের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানাতে থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে রাত ৮টার সময় কায়দা বাজারদী গোরস্থান মাঠে মরহুমের জানাজা নামাজ শেষে কায়দা বাজারদী কবরস্থানেই তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নকলা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় সংবাদকর্মী, রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল আলাদাভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
চিরবিদায়ী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে নকলা পৌরসভার বাজারদী এলাকায় (সরকারি হাজী জালমামুদ কলেজের পিছনে) বাড়ী করে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একজন নিষ্ঠাবান কর্মচারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবসরকালীন সময়ে তিনি পরিবার-পরিজন ছাড়া অযথা বাহিরে সময় কাটানোর নজির স্থাপন করেননি।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ-এঁর লাল মুক্তিবার্তা তালিকা নম্বর ০১১৪০৩০২০৩, গেজেট তালিকা নম্বর ১০১১ এবং কল্যাণ ট্রাস্ট তালিকা নম্বর ১৫৬৭৪। জাতীয় পরিচয়পত্র মোতাবেক মৃত্যুর দিনে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর ১১ মাস ১৩ দিন। তিনি বার্ধক্য জনিত কারনে রোগে ভোগ ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ৪ মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।