বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় | সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭১ বার পঠিত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেঁজুতি বিদ্যানিকেতন ও একুশে পাঠচক্র-এর যৌথ আয়োজনে বিজয় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকালে ‘এসো মিলি লাল সবুজের পতাকায়’-এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে বিজয় শোভাযাত্রাটি সেঁজুতি বিদ্যানিকেতনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেঁজুতি বিদ্যানিকেতনের মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক মনি গাঙ্গুলি’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেঁজুতি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মুনীরুজ্জামান।

শিক্ষক শঙ্করী পাঠকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষার্থী শায়ন সরকার, মালিহা জাহান ও ঝুম আচার্যসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তত্ব ইতিহাস এবং নালিতাবাড়ী অঞ্চল হানাদারমুক্ত দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এর আগে, সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করা হয়। পতাকা উত্তোলণ করেন সেঁজুতি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মুনীরুজ্জামান। এময় দেশ ও জাতীয়তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সমসুরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

উল্লেখ্য, পাকহানাদার বাহিনী বর্তমান নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ, রামচন্দ্রকুড়া ফরেস্ট অফিস, হাতিপাগার বিডিআর ক্যাম্প তিনআনী বাজার ও ঝিনাইগাতির আহাম্মদ নগরে ক্যাম্প স্থাপন করে। দীর্ঘ ৯ মাসে নাকুগাঁও (বর্তমান স্থলবন্দর) ঢালু সীমান্তে ২৫মে ভোরে পাকিস্তানী হায়েনার দল অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৯ জন ভারতীয় বিএসএফসহ কয়েকশ বাংলাদেশিকে নির্মম ভাবে হত্যা করে পাশের ভোগাই নদীতে ভাসিয়ে দেয়। ৩০ জুন তন্তর গ্রামের সাত জনকে হত্যা করে। এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার অপরাধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। নন্নীবারমারী সড়কে একজন ক্যাপ্টেনসহ ছয়জন সৈন্য জিপ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে পাকবাহিনী আতংকিত হয়ে পড়ে। শেষে কৌশল পরিবর্তন করে নালিতাবাড়ী থানা সদরে রাজাকার আল বদরদের সহায়তায় শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করে। এরপর ২৫ জুলাই উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে ১৮৭ জন নারী-পুরুষ শিশুসহ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

পহেলা ডিসেম্বর এ ঘাঁটি থেকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অভিযান চালালেও সফল হতে পারেনি। বরং হাছেন আলী মুন্সি ও আয়াত আলী নামে দুই জন মুক্তিযোদ্ধা শাহিদ হন। রাজাকার আলবদররা এ দুই বীরের মরদেহ নিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে। তাদের পায়ে রশি বেঁধে টেনে শহরের অদূরে নিয়ে মাটি চাপা দেয়। ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে পুনরায় ক্যাম্প দখলের লড়াই শুরু হয়। এ লড়াইয়ে মিত্রবাহিনীর একটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দল অংশ নেয়। টানা দুইদিন দুইরাত গুলাগুলি চলার পর ৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর জঙ্গি বিমান দিয়ে বোম্বিং করার পরিকল্পনা করে। এতে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করে এ পরিকল্পনা বাদ করা হয়। এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা আক্রমণ শিথিল করে দেন। এ সময় ক্যাম্পের আলবদর, রাজাকাররা পালিয়ে যায়। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর পূর্বদিগন্তে সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা, জয় বাংলা– শ্লোগানে এলাকায় ঢুকতে থাকে। ক্রমেই শ্লোগানের আওয়াজ স্পষ্ট হয় কেটে যায় শঙ্কা। মুক্তিযোদ্ধাদের কন্ঠের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে মুক্তির উল্লাসে মেতে ওঠেন এলাকার মুক্তিকামী সাধারন জনগন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীরা এগিয়ে যায় সামনের দিকে পিছু হটে হানাদার বাহিনী। শত্রুমুক্ত হয় নালিতাবাড়ী অঞ্চল। উড়নো হয় লাল সবুজের পতাকা।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102