শেরপুরের নকলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ‘সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক সচেতনতা মূলক সভা এবং সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানেটারি প্যাড উফার বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরের দিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্যালয়ের সহযোগিতায় নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়টির মিলনায়তনে সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির মেয়ে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রবাল সরকার পার্থ ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা (শাওন)।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতি শেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সরকার মো. আবু রায়হান তরুন।
কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রমা রানী সাহা। তারা অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কৈশোরকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সঠিক ভাবে পরিষ্কার পরিছন্নতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
সেশন পরিচালনাকারীসহ বক্তারা কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার, পানি ও স্যানেটেশন ব্যাস্থা, খাদ্য ও পুষ্টি, সুস্বাস্থ্যে ধুমপান ও মাদকাসক্তির প্রভাব, বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনে করণীয়, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা, কৈশোরকালীন পরিচ্ছন্নতা, শারীরিক পরিবর্তনের ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্যবিয়ের কুফল ও করণীয়, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা (ইভটিজিং) এবং যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন, জেন্ডার বৈষম্য ও সচেতনতা, প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ, যৌনবাহিত রোগ ও করণীয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, বৃদ্ধিজনিত সমস্যা ও জনসংখ্যা বিষয়ক পরিসংখ্যান, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে ধারনা দেওয়ার পাশপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এসময় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতির জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা ও পরিবারকল্যাণ সহকারীগন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।