স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে শেরপুরের নকলায় অর্ধদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ণ দিবস (কমপ্লিট শাট-ডাউন) কর্মসূচি পালন করা হবে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যানার হাতে অর্ধদিবস (সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত) কর্মবিরতি পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। ব্যানার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কমপ্লিট শাট-ডাউন কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টসহ উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টগন এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছেন। কর্মবিরতির চলাকালে নিজের কর্মস্থলে অবস্থান করলেও তারা সকল সেবা প্রদান থেকে বিরত ছিলেন।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্যাথলজি কক্ষের দরজায়, এক্স-রে কক্ষের দরজায়, ডিসপেনসারি (ফার্মেসী)-এর কক্ষের সামনে ও প্রধান ফটকের সামনে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবারে অর্ধদিবস ও বৃহস্পতিবার পূর্ণ দিবস কর্মসূচি পালনের ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কর্মবিরতি চলাকালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আব্দুর রহিম, সেনেটারী ইন্সপেক্টর (এসআই) হাসান ফেরদৌস আলম, ফার্মাসিস্ট (ডিসপেনসারি) মোশাররফ হোসেন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আবু কাউছার বিদ্যুৎসহ বক্তারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ পেশাগত উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন না করায় তারা কর্মবিরতিতে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা মোতাবেক তা যথাযথ ভাবে পালন করা হবে বলেও বক্তারা জানান।
তবে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতির কারণে বিনামূল্যের ওষুধ প্রদান, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা প্রদান বিঘ্ন হচ্ছে। এতে দূরের গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের একপ্রকার ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর জনগন।
আন্দোলনকারীদের দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার তাদের দাবি সমূহ মেনে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানের গতি স্বাভাবিক করে জনগনের পূর্ণ আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।