বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

বারোমারীতে জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহা খ্রিস্টযাগসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে তীর্থ উৎসবের সমাপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় | শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৭৮ বার পঠিত

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহা খ্রিস্টযাগসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব (২৮তম তীর্থ উৎসব) শুক্রবার দুপুরের দিকে সমাপ্ত হয়েছে।

‘আশার তীর্থ যাত্রী ফাতেমা রানী মা মারিয়া’ এই মূল সুরকে কেন্দ্র করে ৩০ ও ৩১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) ২ দিনব্যাপী ফাতেমা রানীর তীর্থযাত্রা শেষ হয়। শুক্রবার দুপুর ১২ টার সময় মহা খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে ২৮তম তীর্থ উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি সিএসসি। শান্তিপূর্ণভাবে তীর্থ উৎসব সমাপ্ত হওয়ায় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনসহ ধন্যবাদ জানান।

তীর্থ উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী সব বয়স ও পেশাশ্রেণির খ্রিস্টভক্তরা পাপমুক্ত হতে জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে আলোর মিছিলে অংশনেন। তীর্থ উৎসব উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোর মিছিল করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কিলোমিটার পাহাড়ের চূড়া বেয়ে মোমবাতি হাতে পুণ্যার্থীদের আলোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানের মাহাত্ম্য এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাত্রা যোগ করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। তীর্থ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের অর্ধ লক্ষাধিক খ্রিস্টভক্ত তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত শতাধিক ফাদার এবং সিস্টাররা অংশগ্রহণ করেন। শুক্রবার সকালে ক্রুশের পথ এবং পরে মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি কামনা করে শেষ হয় ২ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান। দুই দিনে সাক্রান্তের আরাধনা, গীতিআলেখ্য ও নীশি জাগরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

এবারের তীর্থ উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তীর্থোৎসবে আসা ভক্তরা যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘেœ তাদের ধর্মীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন সেজন্য পুলিশ, বিজিবি, ব্যাটালিয়ান, আনসারসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মীর সমন্বয়ে কঠুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই উৎসব যথাযথ মর্যাদায় ও নির্বিঘেœ পালনের জন্য নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি সার্বক্ষনিক সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা সার্বিক ব্যবস্থা মনিটরিং করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। এই তীর্থ উৎসবে অন্য ধর্মের লোকদেরও অনেক কিছু শিখার আছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু, বৌদ্ধ ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীসহ বিভিন্ন ধর্মের দর্শনার্থীরা।

সাধু লিওর ধর্মপলি¬র পাল পুরোহিত ও তীর্থোৎসব কমিটির আহ্বায়ক তরুণ বনোয়ারি বলেন, ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই তীর্থে দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। তাঁরা দুই দিনব্যাপী তীর্থে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মা ফাতেমা রানীর কাছে দেশ ও মানবজাতির কল্যাণে প্রার্থনা শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী এলাকায় ৪২ একর পাহাড়ী জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লী¬। ১৯৯৮ সালে প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ স্থানটিকে ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর এই ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102