শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কমিটি গঠন শেরপুরে নানান আয়োজনে রক্তসৈনিক ভেলুয়া শাখার ৫বছর পুর্তি উদযাপন নালিতাবাড়ীর সেঁজুতি প্রাঙ্গনে ১১৭তম একুশে পাঠচক্র আসর নকলায় উপজেলা দর্জি কল্যাণ সংগঠন’র নতুন কমিটির অভিষেক ও অফিস উদ্বোধন নালিতাবাড়ীতে দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এসএসসি-সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরে মতবিনিময় সভা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম-খতিবদের সাথে মতবিনিময় সভা নকলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’র বিশেষ সভা নকলার দেবুয়ারচর স.প্রা.বি-তে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ মা সমাবেশ

নকলায় ভাতাভোগীর লাইফ ভেরিফিকেশনে অনুপস্থিত থাকায় একজনের নাম কর্তন করে অন্যকে অন্তর্ভূক্তি

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় | বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪
  • ১৯২ বার পঠিত

শেরপুরের নকলায় বিধবা ভাতাসহ সমাজসেবার সকল ভাতা ভোগীদের জীবিত বা মৃত নিশ্চিত করতে স্বশরীরে উপস্থিতির দিন (লাইফ ভেরিফিকেশন) হাজির না হওয়ায় এবং এলাকাবাসী কেউ চিনতে না পারায় মৃত বা নিরুদ্দেশ বিবেচনা করে রাবেয়া নামের এক বিধবার নাম বিধবা ভাতার তালিকা থেকে কর্তন করে তারস্থলে মাহমুদা বেগম নামে আরেক বিধবার নাম সংযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাজু মিয়া জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ভাতা ভোগীদের মৃত বা নিরুদ্দেশ চিহৃত করতে স্ব স্ব এনআইডি কার্ড, বিকাশ নম্বর, ভাতা প্রাপ্তির বই নিয়ে নির্ধারিত দিন তারিখে ও স্থানে স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য প্রচার প্রচারনা দেওয়া হয়। সেমোতাবেক কর্তন হওয়া বিধবার বাড়ির নিকটেই ক্যাম্পেইন করা হয়। সেদিন পাঠাকাটা ইউপির চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সমাজসেবার ইউনিয়ন মাঠকর্মী ও গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপি ভাতার ভোগীদের তালিকা সংযোজন ও বিয়োজন (সংশোধন) করা হয়। কিন্তু বিধবা রাবেয়া বা তার কোন প্রতিনিধি হাজির না হওয়ায় এবং এলাকাবাসীর কেউ তাকে রাবেয়া বা তার বাবার নামে বা তার অভিভাবকের নামে চিনতে না পারায় রাবেয়া বেগমকে সর্বসম্মতিক্রমে মৃত বা নিরুদ্দেশ বিবেচনা করে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা মোতাবেক তার স্থলে অন্যএক বিধবার নাম সংযুক্ত করা হয়। পরে যখন জানা যায়, ওই বিধবা রাবেয়া ইউপি সদস্য বাজু মিয়ার বাড়ির পাশেই বাস করেন এবং জীবিত আছেন। তখন মানবিক বিচেনায় রাবেয়ার নামে পুনরায় ভাতা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়। এমনকি যতদিন তার নামে পুনরায় ভাতা চালু না হবে, ততদিন তাকে ভাতার সমপরিমাণ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর থেকে অন্যরা যতবার ভাতা পেয়েছেন, ইউপি সদস্য বাজু মিয়া ঠিক ততবার (তিন ধফায়) বিধবা ভাতার পরিবর্তে সমপরিমাণ টাক বিধবা রাবেয়ার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি স্বস্থির নিশ্বাস ছেড়ে বলেন, শুনলাম বিধবা রাবেয়ার নামে পুনরায় ভাতার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এতে আমার পকেট থেকে আর টাকা দিতে হবেনা।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন মাঠকর্মী পারভেজ জানান, পাঠাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত দিনব্যাপি ভাতার ভোগীদের লাইফ ভেরিফিকেশন করা হয়। কিন্তু বিধবা রাবেয়া বা তার কোন প্রতিনিধি হাজির না হওয়ায় এবং এলাকাবাসীর কেউ তাকে রাবেয়াকে তার বাবার নামে বা তার অভিভাবকের নামে চিনতে না পারায় সর্বসম্মতিক্রমে রাবেয়াকে মৃত বা নিরুদ্দেশ বিবেচনা করে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক তার স্থলে অন্যএক বিধবার নাম সংযুক্ত করা হয়েছিলো। তবে রাবেয়া জীবিত আছেন জানতে পেরে তার নামে পুনরায় ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দফা থেকেই তিনি নিজস্ব কার্ডের মাধ্যমে বিধবা ভাতা পাবেন বলে পারভেজ জানান।

পাঠাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, আমিতো সারা ইউনিয়নের সকল ভাতাভোগীদের চিনিনা। কারন সকল নারীদের এনআইডি কার্ডে স্বামীর নাম নাদিয়ে বাবার নাম দেওয়ায় সহজে কেউই চিনেন না। তাই সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও এলাকার গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে ভাতা ভোগীদের লাইফ ভেরিফিকেশন করা হয়। তখন কোন ভাতাভোগী বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে তাকে কেউ চিনেন কিনা প্রথমে উপস্থিতিদের জানান দেওয়া হয়। পরে কেউ না চিনলে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মৃত বা নিরুদ্দেশ বিবেচনা করা করে তার পরিবর্তে অন্য একজনকে ভাতা প্রাপ্তির সুবিধার আওতায় আনা হয়। বিধবা রাবেয়ার ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছে। লাইফ ভেরিফিকেশনের দিন সে বা তার কোন প্রতিনিধি না থায় এবং তাকে কেউ চিনতে নাপারায় তার নাম কর্তন করে অন্যকে সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিলো। তবে রাবেয়া জীবিত নিশ্চিত হওয়ার পরে তার নামে পুনরায় ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এবিষয়ে জানান, লাইফ ভেরিফিকেশনের দিন বিধবা রাবেয়া স্বশরীরে উপস্থিতি না হওয়ায় বা তার কোন প্রতিনিধি হাজির নাহওয়ায় এবং এলাকাবাসীর কেউ চিনতে না পারায় মৃত বা নিরুদ্দেশ ভেবে রাবেয়া নামের এক বিধবাকে ভাতার তালিকা থেকে প্রতিস্থাপন করে তারস্থলে মাহমুদা বেগম নামে আরেক বিধবার নাম সংযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। এতে সমাজ সেবার কোন কর্মকর্তা বা ইউপি চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশ বা এলাকাবাসীর কোন দায় নেই। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক লাইফ ভেরিফিকেশনের দিন ভাতাভোগী বা তার প্রতিনিধি স্বশরীরে উপস্থিতি না থাকলে তাকে মৃত বা নিরুদ্দেশ বিবেচনা করা হয় এবং তাইই হয়েছে। তবে বিধবা রাবেয়ার ভাতা প্রাপ্তির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দফা থেকে তিনি নিজের কার্ডের মাধ্যমেই ভাতা পাবেন বলে আলমগীর হোসেন আশাব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরো সংবাদ
©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সমকালীন বাংলা
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102