শেরপুরে দাফনের দুই মাস ২০ দিন (৮০ দিন) পরে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে আবু সাঈদের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (পহেলা সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় ডেপুটি নেজারত কালেক্টর (এসডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে শেরপুর সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের শালচূড়া গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে নিহত আবু সাঈদ (৩০) এর লাশ উত্তোলন করা হয়।
জানা গেছে, গত ১১ জুন রাতে মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে নিহতের পরিবার সাঈদের বন্ধু আতিক মিয়া (৩০), জাকির (২৮), তরিকুল ইসলাম (৩০), ডাঃ সোয়েব (২৭), শারমীন সুলতানা ডেইজি (২৫), মোছাঃ জুলি (৩২), আলীম মিয়া (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীদের আসামী করে ২৭ জুন বিজ্ঞ সি.আর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে ২২ আগস্ট শেরপুর সদর থানায় মামলাটি এফ.আই.আর ভুক্ত হয়। ৩১ আগস্ট মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানায়। নিহত আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের পরেরদিন বুধবার (পহেলা সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় কবর থেকে আবু সাঈদের লাশ উত্তোলন করা হয়।
সাঈদের পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে সুকৌশলে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছে। কারন হিসেবে তারা জানান, ঘটনার দিন সাঈদের বন্ধুরা (অপরাধীরা) জেলা সদর হাসপাতালে সাঈদকে ভর্তি না করে, তাকে অনেক বিলম্ব করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাঈদকে মৃত ঘোষনা করে। এরপর সাঈদের বন্ধুরা তার লাশ বিনা ময়না তদন্তে দাফনের জন্য তাড়াহুড়ো করে। এ আচরন গুলো দেখেই সাঈদের পরিবারের সন্দেহ হয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামীরা বিভিন্ন ভাবে প্রভাব খাটিয়ে হত্যার ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা তদবীর করতে থাকে। এছাড়া মামলা তুলে নিতে সাঈদের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ঘটনার পর সাঈদের পরিবার লাশের ময়নাতদন্ত করার দাবী জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে।
আসামী পক্ষের পরিবারের কয়েক জনের সাথে এ ঘটনা ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এটি একটি হয়রানি মূলক ও পরিকল্পিত মামলা। তানা হলে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের ১৬ দিন পরে হত্যা মামলা করার কোন মানে হয়না। সাধারন জনগন বিষয়টি বেশ ভালো করেই বুঝতেছে। হয়রানি মূলক ও পরিকল্পিত এ মামলার বিষয়টি পুলিশ বিভাগসহ যেকোন গোয়েন্দা সংস্থার সুষ্ঠ তদন্তে আসল বিষয় ও কারন বেড়িয়ে আসবে বলে তাদের দাবী।
এবিষয়ে ডেপুটি নেজারত কালেক্টর (এসডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে আবু সাঈদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতাহাল রেকর্ড করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট আসলে, রিপোর্ট অনুযায়ী আদালত ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে বলে তিনি জানান।